

রাজধানীর মালিবাগ চামেলীবাগে ২০১৩ সালের আগস্টে পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) পরিদর্শক মাহফুজুর রহমান ও তার স্ত্রী স্বপ্না রহমানকে হত্যার ঘটনায় তাদেরই কিশোরী মেয়ে ঐশী রহমান বর্তমানে যাবজ্জীবন সাজায় গাজীপুর জেলা কারাগারে বন্দি। অষ্টম শ্রেণিতে পড়ার সময় কারাগারে যাওয়া ঐশীর বয়স এখন প্রায় ২৫ বছর।
কারাবিধি অনুযায়ী সব সময় কয়েদি শাড়ি পরেই থাকতে হয় তাকে। আগে স্বজনরা দেখা করতে এলেও এখন সরাসরি সাক্ষাৎ করতে আসেন না কেউ, তবে সপ্তাহে একদিন ফোনে পরিবারের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পান।
২০১৩ সালের ১৪ আগস্ট সংঘটিত এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড দেশজুড়ে আলোড়ন তোলে এবং আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও প্রচারিত হয়। পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদ ও স্বীকারোক্তিতে জানা যায়, মাদক সেবনে বাধা ও বন্ধুদের সঙ্গে মেলামেশায় কড়াকড়ির কারণে ঐশী বাবা-মাকে হত্যার পরিকল্পনা করে।
ঘটনার দিন কফির সঙ্গে চেতনানাশক ওষুধ মিশিয়ে অচেতন করার পর ছুরিকাঘাতে তাদের হত্যা করা হয়। হত্যার পর গৃহকর্মীর সহায়তায় লাশ বাথরুমে লুকিয়ে রেখে রক্ত পরিষ্কার করে এবং পরদিন বাসা থেকে বেরিয়ে যায় ঐশী।
দুই দিন পর পল্টন থানায় আত্মসমর্পণ করে সে।
নিম্ন আদালত প্রথমে তাকে মৃত্যুদণ্ড দিলেও ২০১৭ সালে হাইকোর্ট তার বয়স, মানসিক অবস্থা ও পারিবারিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। একই মামলায় বন্ধু মিজানুর রহমান রনিকে দুই বছরের কারাদণ্ড ও জরিমানা করা হয়, আরেক বন্ধু আসাদুজ্জামান জনি খালাস পান। গৃহকর্মী খাদিজা আক্তার সুমি অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় কিশোর আদালতে বিচার শেষে খালাস পান।
কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মো. মোতাহের হোসেন জানিয়েছেন, ঐশী বর্তমানে গাজীপুর জেলা কারাগারে বন্দি রয়েছেন। কারা সূত্রে জানা যায়, তিনি কারাগারের ভেতরে হস্তশিল্পসহ বিভিন্ন কাজে যুক্ত থেকে সময় কাটান এবং সেখান থেকে পাওয়া অল্প আয়ে ক্যান্টিন থেকে প্রয়োজনীয় জিনিস কেনেন। পাশাপাশি মহিলা ওয়ার্ডের দৈনন্দিন কাজ লিপিবদ্ধ করার দায়িত্বও পালন করছেন।
কারা কর্তৃপক্ষের পর্যবেক্ষণে ঐশী নিরিবিলি ও ভদ্র স্বভাবের। তবে বাবা-মায়ের প্রসঙ্গ উঠলে তিনি নীরব হয়ে যান। পারিবারিক যোগাযোগেও পরিবর্তন এসেছে। আগে ছোট ভাইসহ স্বজনরা দেখা করতে এলেও এখন সরাসরি সাক্ষাৎ হয় না, মাঝে মাঝে ফোনে কথা হয়। তার জাতীয় পরিচয়পত্র এখনও তৈরি হয়নি এবং সাম্প্রতিক নির্বাচনে ভোটাধিকারও প্রয়োগ করতে পারেননি।