

আস সালামু আলাইকুম।
প্রিয় সুধীজন,
আমি বিশ্বাস করি সব ফায়সালার কারিগর আল্লাহ রহমানুর রহীম।
আর যে কোনো রাজনৈতিক দলের সিদ্ধান্ত দলের সম্মানিত নীতিনির্ধারকদের। তাঁদের প্রতি আমি পূর্ণ আস্থা এবং সম্মান রাখি।
আপনারা জানেন অথবা কেউ কেউ জানেন না যে আমি আজীবন মানুষের পাশে থেকেছি আমার সাধ্যমত।
আমার রাজনৈতিক যাত্রা শুরু হয় ২০১৩ সালে।আমাদের আপসহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ২০১৩ সালে আমাকে রাজনীতিতে আসার জন্য উদ্বুদ্ধ করেন। তখনই উনি মহিলা সংরক্ষিত আসনের বদলে সরাসরি জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার কথা বলেন এবং যেটা আমার জন্য খুবই কঠিন কাজ ছিল।তবু্ও আমি তাঁর কথা বেদবাক্য হিসেবে মেনে নিয়ে কাজ শুরু করি।
যার ফলশ্রুতিতে ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে একজন বর্ষীয়ান দুঁদে রাজনীতিবিদ এর মুখোমুখি হয়ে নির্বাচনের জন্য নমিনেশন পাই।এবং বলাই বাহুল্য সে যাত্রা সহজ ছিলো না।ছিলো বিপদসংকুল এবং আমার জন্য দুরূহ।আমি এবং আমার আল্লাহ জানেন আমার সীমিত ক্ষমতা দিয়ে এই লড়াই চালানোর চেষ্টা করে গেছি। আমি একজন রাজনৈতিক মনস্ক মানুষ ,কিন্তু আমি রাজনীতিবিদ নই যার জন্য পুরো কাজই আমার জন্য চ্যালেঞ্জ ছিলো এবং নেত্রীর আদেশ আমি পালন করেছি।
তারপর দীর্ঘ অনেক গুলো বছর বিপুল ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছি তা বর্ণনাতীত। বিগত আমলে আমরা নেতাকর্মীরা নানাভাবে নির্যাতিত হয়েছি, কেউ জেল খেটেছে,কেউ মামলা খেয়েছে।
আর আমি? আমি মানসিক ও অর্থনৈতিক ভাবে নিঃস্ব হয়ে গেছি। একজন শিল্পী গাইতে না পারলে তার কী বাকী থাকে বলুন? বাংলাদেশের মাটিতে কোথাও কোনো গান গাইতে পারিনি। আমি নিজেকে সুস্থ রাখার জন্য ফুল লতা পাতা ছবি আঁকা, আমার পরিবার ও রান্না নিয়ে ব্যস্ত থাকার চেষ্টা করেছি।
আমি সবার ক্ষতিকেই ক্ষতি হিসেবে দেখি,তাদের এই ত্যাগকে মূল্যায়ন করি কিন্তু আমার এই যে ক্যারিয়ার হারানো, নিঃস্ব হয়ে যাওয়ার কোনো স্বীকৃতি কি আমি পেতে পারি না?
এবারের ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এবং বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী সাহেবের সম্মতিক্রমে আমার নির্বাচনী এলাকায় কাজ শুরু করি।এবং বছরভর নিজের দলের ভেতরের বাধাবিপত্তি পেরিয়ে নিরলস কাজ করেছি কিন্তু কোনো কারণে দল আমাকে মনোনীত করেনি। তা আমি কষ্ট পেলেও মেনে নিয়েছি।এবং সেজন্য কে কি ভাবলো তাতে আমার কিছু আসে যায়না। দলের প্রতি আমার আনুগত্য একশো পার্সেন্ট।
কিন্তু অযথা অন্যায়ভাবে মিথ্যাচার করে মানুষের কাছে আমাকে হেয় প্রতিপন্ন করার হীন প্রচেষ্টা বস্তুতই দূরভিসন্ধিমূলক। এবং আমার মনে হয় যারা জাতীয় নির্বাচনে চায়নি যে আমি নমিনেশন পাই ,তারা এখনো এই অপচেষ্টায় লিপ্ত আছেন।
দলের যে কারো অধিকার আছে নমিনেশন চাওয়ার এবং যে কেউ নিজেকে যোগ্য মনে করারও অধিকার রাখে ,আবার দলের নীতিনির্ধারকদেরও বিধান আছে যাচাই-বাছাই করে সঠিক মানুষকে বেছে নেয়া। অতএব নমিনেশন ফর্ম কেনার দুয়ার সবার জন্য খোলা বলাই বাহুল্য।
যাইহোক ,আমার সাথে করা অনেক অন্যায়ের বিচারের ভার আমি আল্লাহর উপর ছেড়ে দিলাম কিন্তু এর ফলে দলের যদি কোনো ইমেজ ক্ষুন্ন হয় তা খুবই দুঃখজনক।কনক চাপার facebook পেজ থেকে সংগৃহীত।