
রাজনৈতিক সরকারের উপর খুব ছাড়লেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আইন উপদেষ্টা ডক্টর আসিফ নজরুল, তিনি বলেন একের পর এক উচ্চাভিলাষী আইন করে যাচ্ছিলাম। মানবাধিকার কমিশন, গুম, সুপ্রীম কোর্ট সচিবালয়, উচ্চ আদালতে বিচারক নিয়োগ, দুদক আইন ছিল এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি। বলেছিলাম এগুলোই প্রকৃত সংস্কারমূলক আইন।
অনেকে তখন ‘কোথায় সংস্কার, কোথায় সংস্কার’ বা ‘সরকার তো কিছুই করছে না ’বলে আমাদের নাকচ করেছেন। কেউ কেউ ‘অধ্যাদেশের সরকার’ বলে ব্যঙ্গ করেছেন। দুএকজন পন্ডিত এমন কথাও বলেছে, এসব করে কি লাভ! এসব তো করবে নির্বাচিত সরকার!
এখন এটা ভেবে ভালো লাগছে যে আমাদের বন্ধু ও সমালোচকরা বুঝতে পারছেন, আমাদের প্রনীত আইনগুলো আসলেও ভালো ছিল এবং এসব করে রাখা দরকার ছিল। পুরো দেশ এখন সোচ্চার হচ্ছে এই আইনগুলো রাখার দাবী নিয়ে।
আমরা এই আইনগুলো প্রনয়ণ করতে অনেক কষ্ট করেছি। আইন মন্ত্রনালয়ের তুখোড় মেধাবীদের নিয়ে গড়া একটা টিম দিনরাত কাজ করেছে। আমরা রিসার্চ করেছি, নিজেরা বসে নিয়মিত আলোচনা করেছি, অন্যদের পরামর্শ নিয়েছি, বারবার ড্রাফট পরিমার্জনা করেছি। এছাড়া, সরকারের ভেতর নানা প্রতিকূলতার সাথেও নিরন্তর লড়াই করেছি। সুপ্রীম কোর্ট সচিবালয় আইন প্রণয়ন করার জন্য আমাকে পদত্যাগের হুমকি পর্যন্ত দিতে হয়েছিল।
আমাদের এতো কষ্ট বৃথা যাবে না বলে বিশ্বাস করি। মানুষ বলতে শুরু করেছে এসবই প্রকৃত সংস্কার, এসব অধ্যাদেশ রাখতে হবে। আমার মনে হয়না এসব আইন থেকে পিছিয়ে পড়া কারো পক্ষে সম্ভব হবে এখন।
আমাদের অন্যান্য কয়েকজন উপদেষ্টাও আইনগত সংস্কারের জন্য কাজ করেছেন। রাজস্ব, আর্থিক ব্যবস্থাপনা, তথ্য প্রযুক্তি ও পরিবেশ বিষয় ভালো কিছু অধ্যাদেশ হয়েছে। আশা করি আমরা সবাই এসব আইন রাখার বিষয়েও সচেতন থাকবো।সরাসরি আসিফ নজরুলের ফেসবুক পোস্ট থেকে।