
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নেতৃত্বাধীন সরকারের মন্ত্রিসভার আকার আরও বাড়তে যাচ্ছে। একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা আরও কয়েকজনকেও সরিয়ে একক দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। এর মধ্যে কয়েকটি মন্ত্রণালয়ে রদবদল এবং নতুন মুখ যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা আছে। যেখানে জায়গা পেতে পারেন দলটির হেভিওয়েট নেতা এবং টেকনোক্র্যাট কোটায় আসতে পারেন অনেকে।
মূলত জনবান্ধব ও প্রশাসনের গতি বাড়াতে ঈদুল আজহার পরে বাজেট অধিবেশন শেষ হওয়ার পরই এই সম্প্রসারণ হতে পারে বলে জানিয়েছিল বিএনপির সূত্র।
এদিকে আজ সোমবার (১ জুন) পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান পদত্যাগ করেছেন। যদিও প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো পদত্যাগত্রে শারীরিক অসুস্থতার কারণ উল্লেখ করে পদত্যাগপত্র গ্রহণ করার জন্য অনুরোধ জানান দীপেন দেওয়ান। এরপর রদবদল নিয়ে আলোচনা আরও জোরাল হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, যেসব মন্ত্রণালয়ে কাজের চাপ বেশি, সেখানে নতুন নেতৃত্ব নিয়ে আসা এবং একজন মন্ত্রীর দায়িত্ব একটি মাত্র দপ্তরে সীমাবদ্ধ রাখার লক্ষ্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্যদের মধ্য থেকেও একজনকে মন্ত্রিসভায় আনা হতে পারে। সে ক্ষেত্রে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য বেগম সেলিমা রহমানের নাম আলোচনায় রয়েছে।
এদিকে বর্তমান মন্ত্রিসভায় নোয়াখালী অঞ্চলের কোনো প্রতিনিধি না থাকায়, নোয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা, সাবেক বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ জয়নুল আবদিন ফারুকের নামও নতুন মন্ত্রিসভায় আলোচনায় এসেছে। প্রবীণ এই রাজনীতিবিদ নোয়াখালীর সেনবাগ থেকে ছয়বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।
টেকনোক্র্যাট কোটায় আলোচনায় যারা
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, টেকনোক্র্যাট কোটায় মন্ত্রী হতে পারেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল এবং হাবিবুন নবী খান সোহেলের মতো ত্যাগী নেতারা।
এ ছাড়া বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টার দায়িত্বে থাকলেও, নতুন মন্ত্রিসভায় তাকে অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে বলে আলোচনা রয়েছে।
বর্তমানে হুইপের দায়িত্ব পালন করা রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুর নামের পাশাপাশি পাবনা থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের নামও আলোচনায় রয়েছে। এ ছাড়া মন্ত্রিসভায় যুক্ত হতে পারেন ঢাকা জেলা বিএনপির সভাপতি ও দোহার-নবাবগঞ্জের সংসদ সদস্য খন্দকার আবু আশফাক, কুমিল্লার সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া।
আলোচনায় যেসব হেভিওয়েট নেতা
সূত্রগুলো জানিয়েছে, নতুন মন্ত্রিসভায় কয়েকজন অভিজ্ঞ পার্লামেন্টারিয়ান, পোড় খাওয়া রাজনীতিবিদ এবং দু-একজন তরুণ মুখকে দেখা যেতে পারে। তাদের মধ্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের নাম গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনায় রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র বলছে, বর্তমান মন্ত্রিসভার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পুনর্বিন্যাস করা হতে পারে। তিনজন মন্ত্রীর দায়িত্ব কমানোর পাশাপাশি একটি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দপ্তর পরিবর্তনের সম্ভাবনাও রয়েছে। কারণ, সম্প্রতি কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে প্রশাসনিক দুর্বলতা এবং কাজের ধীরগতির বিষয়টি সরকারের নজরে এসেছে।
ইতোমধ্যে তিনটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা একজন মন্ত্রী এবং দুটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা আরেক মন্ত্রীর বক্তব্য ও কর্মকাণ্ড নিয়ে নানা বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ফলে তাদের দায়িত্ব কমিয়ে দেওয়া বা পরিবর্তনের আলোচনা চলছে বলেও জানা গেছে।
প্রতিমন্ত্রী হিসেবে যুক্ত হতে পারেন খুলনার সংসদ সদস্য আজিজুল বারী হেলাল, ফরিদপুরের সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম বাবুল এবং সিরাজগঞ্জের সংসদ সদস্য আমিরুল ইসলাম খান আলিমের মধ্য থেকে যে কেউ।
টেকনোক্র্যাট কোটায় প্রতিমন্ত্রী হিসেবে বিএনপির মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক অধ্যাপক মওদুদ আলমগীর পাভেলের নামও আলোচনায় রয়েছে। বগুড়ার এই নেতা প্রধানমন্ত্রীর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত।
যুক্ত হবে প্রবীণ নেতারা
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সূত্রে আরও জানা গেছে, বর্তমান শিক্ষামন্ত্রীকে সরিয়ে অন্য কোনো মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। সে ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহাদী আমিনকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে বলে আলোচনা চলছে।
একই সঙ্গে সংসদ উপনেতা হিসেবে দলের স্থায়ী কমিটির প্রবীণ দুই সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন এবং ড. আব্দুল মঈন খানও মন্ত্রিসভায় আসছেন বলে আলোচনায় রয়েছে। পাশাপাশি উপদেষ্টা পরিষদেও আরও দুজন সদস্য বাড়তে পারে বলে জানা গেছে।