
সংরক্ষিত নারী ৫০ আসনে প্রার্থী দিয়েছে বিএনপি ও জামায়াত জোট। এর মধ্যে সংশ্লিষ্ট বিধানের কারণে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী মনিরা শারমিনের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। মাঠে থাকাদের ১৭ জনই কোটিপতি। এর মধ্যে বিএনপির ১৬ জন। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমানের কাছে সর্বোচ্চ ৬ কোটি ৮৮ লাখ টাকার সম্পদ রয়েছে। প্রার্থীদের নির্বাচনী হলফনামা পর্যালোচনা করে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
হলফনামা অনুযায়ী বিএনপির প্রার্থীদের মধ্যে চারজনের পেশা রাজনীতি। তাঁরা হলেন সেলিমা রহমান, শাম্মী আক্তার, হেলেন জেরিন খান ও মমতাজ আলম। দলটির ১১ প্রার্থী আইনজীবী। তাঁরা হলেন রেবেকা সুলতানা, মাধবী মার্মা, শওকত আরা আক্তার, ফাহিমা নাসরিন, শামীম আরা বেগম স্বপ্না, নিপুন রায় চৌধুরী, নিলোফার চৌধুরী মনি, আরিফা সুলতানা, জহরত আদিব চৌধুরী, নেওয়াজ হালিমা আরলী ও সাকিলা ফারজানা।
হলফনামায় পেশা ব্যবসা উল্লেখ করেছেন নয়জন। তাঁরা হলেন নাদিয়া পাঠান পাপন, মোছা. সানজিদা ইয়াসমিন, মোছা. সুরাইয়া জেরিন, বীথিকা বিনতে হোসাইন, ফেরদৌসী আহমেদ, মোছা. সাবিরা সুলতানা, জীবা আমিনা খান, শিরীন সুলতানা ও বিলকিস ইসলাম। সেলিনা সুলতানা নারী উদ্যোক্তা এবং ফাহমিদা হক লেখক ও বিশ্লেষক। সানসিলা জেবরিন চিকিৎসক। সুবর্ণা সিকদার পেশায় শিক্ষক। আন্না মিনজ বেসরকারি চাকরিজীবী। রাশেদা বেগম হীরা ও মোসা. ফরিদা ইয়াসমিন সমাজকর্মী। সুলতানা আহমেদ ও সানজিদা ইসলাম তুলি নিজেদের বলেছে গৃহিণী। পেশার জায়গায় শিক্ষার্থী উল্লেখ করেছেন মানসুরা আক্তার।
নারী প্রার্থীদের মধ্যে সবচেয়ে বয়োজ্যেষ্ঠ বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান। ৮৪ বছরের বেশি বয়স্ক এ জ্যেষ্ঠ রাজনীতিক আয়কর রিটার্নে সম্পদ দেখিয়েছেন ৬ কোটি ৮৮ লাখ ৯৫ হাজার ৭৩৭ টাকার। পেশা হিসেবে রাজনীতির কথাই উল্লেখ করেছেন তিনি। অন্যদিকে সমাজসেবা ও রাজনীতিকে পেশা দেখানো হেলেন জেরিন খানের আছে ৬ কোটি ১৪ লাখ ৪৩ হাজার ৪৯৫ টাকার সম্পদ।
পেশায় গৃহিণী এলএলবি পাস সুলতানা আহমেদের কাছে ৫ কোটি ৪৯ লাখ ৬৬ হাজার ৬৬৪ টাকার সম্পদ রয়েছে। আরেক গৃহিণী সানজিদা ইসলামের আছে ২ কোটি ১৩ লাখ ৮৫ হাজার ৭৫০ টাকার সম্পদ। ব্যবসায়ী শিরীন সুলতানার সম্পদ ৪ কোটি ৬ লাখ ৫৬ হাজার ৪০১ টাকার। আইনজীবী নিপুন রায় চৌধুরীর সম্পদের মূল্য ৩ কোটি ৭৯ লাখ ৩ হাজার ৬৩ টাকা। একই পেশার শামীম আরা বেগম স্বপ্নার সম্পদের দাম ৩ কোটি ৯৯ লাখ ১৪ হাজার ২০৯, জহরত আদিব চৌধুরীর সম্পদের দাম ৩ কোটি ৯৬ লাখ ৯৩ হাজার ৮৭৯ এবং ফাহিমা নাসরিনের সম্পদের দাম ২ কোটি ৮৩ লাখ ৫৬ হাজার ৭৫৮ টাকা।
ব্যবসায়ী বীথিকা বিনতে হোসাইনের কাছে ২ কোটি ১২ লাখ ৬৫ হাজার ৭৮১ টাকার সম্পদ রয়েছে। সমাজকর্মী রাশেদা বেগম হীরার ১ কোটি ৫৩ লাখ ৫ হাজার ৭৬০ টাকার সম্পদ রয়েছে। পেশা উল্লেখ না থাকা মাহমুদা হাবিবার কাছে ১ কোটি ৪০ লাখ ৯৯ হাজার ৩৮৬ টাকার সম্পদ আছে।
অন্যদিকে জামায়াত জোটের ১২ প্রার্থীর মধ্যে সবচেয়ে ধনী সাবিকুন্নাহার। পেশায় আইনজীবী সাবিকুন্নাহারের কাছে ১ কোটি ৩৮ লাখ ৩৮ হাজার ৩১৬ টাকার সম্পদ রয়েছে। এই জোটের আরেক প্রার্থী তাসমিয়া প্রধান আইন পেশায় আছেন বলে উল্লেখ করেছেন। নাজমুন নাহার পেশা হিসেবে ব্যবসা উল্লেখ করেছেন। শিক্ষকতায় আছেন নূরুন্নিসা সিদ্দীকা, মারদিয়া মমতাজ ও শামছুন্নাহার বেগম। মাহফুজা হান্নান পেশা হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক উল্লেখ করেছেন। চিকিৎসা পেশায় আছেন মাহমুদা আলম মিতু। পেশা গৃহিণী উল্লেখ করেছেন মারজিয়া বেগম, সাজেদা সামাদ এবং রোকেয়া বেগম। স্বতন্ত্র প্রার্থী সুলতানা জেসমিন পেশা হিসেবে গবেষক এবং পরামর্শক উল্লেখ করেছেন।